ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ দেশের ১১ জেলা হঠাৎ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন এবং নারী ২ জন।
বন্যা আক্রান্ত জেলা: ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। এসব জেলায় মোট ৭৭ উপজেলা প্লাবিত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন ও পৌরসভা ৫৮৯টি। পানিবন্দি পরিবার সংখ্যা ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৯, মোট ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার ২৯৯ জন।
সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে ৩ হাজার ১৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩০ জন মানুষ এবং ১৮ হাজার ৯৬টি গবাদি পশু আশ্রয় পেয়েছে। এছাড়া ৬৩৯টি মেডিকেল টিম চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে।
এছাড়াও, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বিজিবি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুমের নম্বর: ০২৫৫১০১১১৫।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংসদ সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অফিসারদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল পাসপোর্ট) বাতিল সংক্রান্ত ফাইল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয় বুধবার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই ফাইল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে পাঠানো হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে
★★লাল পাসপোর্টকে বলা হয় ডিপ্লোম্যাটিক বা
এই পাসপোর্ট পাবেন রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভার সদস্যগণ, সংসদ সদস্য এবং তাদের স্পাউস অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রী।
সেই সঙ্গে উচ্চতর আদালতের বিচারপতিগণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রধান, মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের কর্মকর্তারা লাল পাসপোর্ট পান।
লাল পাসপোর্ট যাদের আছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য কোন ভিসা প্রয়োজন হয় না। তারা সংশ্লিষ্ট দেশে অবতরণের পর অন-অ্যারাইভাল ভিসা পান।
ডিপ্লোম্যাটিক বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট সব দেশেই লাল রং এর হয়ে থাকে।
![]() |
| সেভেন সিস্টার্স |
সম্প্রতি, ব্রিটিশ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা মি-৫ (MI5) ভারতকে সতর্ক করে যে, চীনের সাথে যুক্ত কিছু শক্তিশালী সংগঠন তাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং সামরিক কৌশলগত উদ্যোগে সেভেন সিস্টার অঞ্চলে (ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল) সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই সতর্কতা মূলত সেভেন সিস্টার অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, যাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চীনের সম্ভাব্য হুমকি ও মিথ্যা তথ্যের প্রভাব মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকে।
এই সতর্কতার পেছনে কি ধরনের নির্দিষ্ট হুমকি বা কর্মকাণ্ড রয়েছে তা প্রকাশিত হয়নি, তবে এটি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বন্যার সময়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। নিচে তুলে ধরা হলো, বন্যার সময়ে কী করা উচিত এবং কী এড়িয়ে চলা উচিত।
#### করণীয় সমূহ :
1. **প্রস্তুতি ও সতর্কতা**: বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর দ্রুত প্রস্তুতি নিন। সরকারের ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং সঠিক তথ্য সংগ্রহ করুন।
2. **নিরাপদ স্থানে আশ্রয়**: জলমগ্ন রাস্তা থেকে নিরাপদ স্থানে চলে যান। পানির উচ্চতা বাড়লে দ্রুত নিরাপদ স্থান খুঁজুন।
3. **জরুরি উপকরণ সংগ্রহ**: প্রয়োজনীয় খাদ্য,
পানি, ঔষধ, এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত করুন। এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
4. **ইলেকট্রনিক ডিভাইসের চার্জ**: বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই টেলিফোন, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করে রাখুন।
5. **পানি নিরাপত্তা**: পরিশোধিত পানি পান করুন এবং সন্দেহজনক পানির ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। জলবাহিত রোগের সম্ভাবনা কমাতে সচেষ্ট থাকুন।
6. **পরিবেশগত সচেতনতা**: বন্যার পর জল নিকাশের জন্য স্থানীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুন এবং দূষণ প্রতিরোধে সহায়তা করুন।
#### নিষেধ্য সমূহ
1. **অবহেলা করবেন না**: বন্যার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। সঠিক তথ্য সংগ্রহ করুন এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
2. **ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যাবেন না**: পানির উচ্চতা বাড়ছে এমন এলাকায় যাবেন না। নিরাপদ এলাকায় অবস্থান করুন।
3. **বন্যার পানিতে সাঁতার কাটবেন না**: বন্যার পানিতে সাঁতার কাটার চেষ্টা করবেন না, এটি বিপজ্জনক হতে পারে এবং জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
4. **বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাছাকাছি যাবেন না**: পানির মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বিপজ্জনক। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাছাকাছি যাবেন না।
5. **অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলুন**: অপ্রয়োজনীয় যাত্রা করার চেষ্টা করবেন না। এটি আপনার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
6. **নিরাপত্তা নির্দেশনা অগ্রাহ্য করবেন না**: স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। তাদের নির্দেশনা আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
বন্যার সময়ে সঠিক প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমরা নিজেদের এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখতে পারি। সতর্কতা এবং প্রস্তুতি বন্যার ঝুঁকি কমানোর মূল চাবিকাঠি।
আরো পড়ুন :-
বাংলাদেশে বন্যার প্রধান কারণগুলো হলো:
1. **ভারী বর্ষণ**: মৌসুমী বায়ু এবং নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়া, যা নদী, খাল-বিল ও

2. **উজানের পানি বৃদ্ধি**: ভারতের উজান থেকে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোর পানি বেড়ে যায়, যা বন্যার অন্যতম কারণ।
3. **ভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহার**: নগরায়ণ ও কৃষিকাজের জন্য বনভূমি কাটা এবং wetlands ভরাট করার কারণে পানির ধারণক্ষমতা কমে যায় এবং বন্যা পরিস্থিতি তীব্র হয়।
4. **মৌসুমী লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়**: মৌসুমী লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়, যা বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
5. **জলবায়ু পরিবর্তন**: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বর্ষাকালের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যায়, যা বন্যা পরিস্থিতি বাড়ায়।
6. **বাঁধ ও জলাধারের অকার্যকরী ব্যবস্থা**: নদীর বাঁধ ও জলাধার ব্যবস্থার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবও বন্যার পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে পারে।
এই কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বন্যা দেখা যায়, যা অর্থনৈতিক এবং মানবিক ক্ষতি সৃষ্টি করে।
আরো পড়ুন: